বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে তেরো বছরের অপেক্ষা
বিচার না পেয়ে পরিবারের হাহাকার, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- পুরোনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ১৩ বছর পরও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভরেছে নিহতের পরিবার।
মঙ্গলবার নরসিংদীর মনোহরদীতে নিজের বাড়িতে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস ভাঙা গলায় বলেন, ছেলে হত্যার বিচার এখনও পাইলাম না। আগের সরকার গেল, নতুন সরকার আইল, কিন্তু বিচার শেষ হইল না। আমরা সংখ্যালঘু বলে কি বিচার পাইমু না? সবার সামনেই আমার ছেলেটারে কোপায়া মাইরা ফেলছে। আগে ভাবতাম সরকার বদলাইলেই বিচার পাইমু, এখনো কোন খবর নাই।
বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম দাস বলেন, সরকারের কাছে দাবি ছিল একটাই, দ্রুত বিচার। কারণ ভাই তো আর ফিরে আসবে না। ভেবেছিলাম সরকার পরিবর্তন হলে গতি আসবে মামলায়, কিন্তু দেড় বছরেও তেমন কিছু দেখলাম না। আগের সরকারের আমলে যারা ঘটনাটায় জড়িত ছিল, তারাই ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিচার শেষ করল না। নতুন সরকারও করছে না। তারপরও চাই ছোট ভাইয়ের হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত শেষ হয়।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন অবরোধের মধ্যে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎকে। ঘটনার পর সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল আহমেদ ২৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের মার্চে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। একই বছরের ডিসেম্বর ঢাকার আদালত আট আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন দেন।
হাইকোর্ট ২০১৭ সালে ওই রায়ে পরিবর্তন আনে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আটজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, চারজনের সাজা কমে যাবজ্জীবনে দাঁড়ায়, আর দুইজন খালাস পান। যাবজ্জীবন পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে দুজন হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন। বাকি আসামিদের আপিল এখনো বিচারাধীন।
বিচার প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বলেন, অনেক মামলাই রায় ঘোষণার পর কার্যকর হতে সময় লাগে। তবে সরকার কয়েকটি আলোচিত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলাসহ আবরার ফাহাদ, নুসরাত জাহান রাফি, নারায়ণগঞ্জ সেভেন মার্ডারের মতো মামলাগুলোর আপিল দ্রুত শেষ হবে।
১৩ বছরের অপেক্ষা পেরিয়ে আজও বিচারের শেষ দেখেনি বিশ্বজিতের পরিবার। তাদের কথা, একটাই চাওয়া ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান।