‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ বা আগামীকাল উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তিনি ঢাকার ভোটার হয়েছেন এবং ঢাকা–১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই পদ ছাড়বেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি নির্বাচনে না নেমে সরকারে থাকতেই আগ্রহী। সোমবার রাতে তার সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর–১ আসনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
এনসিপি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আসিফ মাহমুদ বিএনপির সঙ্গে জোট হলে এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। জোট না হলে তার সরাসরি বিএনপিতে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি ১০০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়, তবে এ তালিকায় আপাতত আসিফের নাম নেই। তিনি দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলে প্রার্থী তালিকায় তার নাম ঘোষিত হবে না।
মাহফুজ আলমের অবস্থান আরও জটিল। এনসিপির এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের বিরোধিতায় তিনি অনড়। বিশেষ করে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমঝোতার বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বেশ কমে গেছে।
কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও পরে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের অবস্থান ও রাজনৈতিক পথচলায় ভিন্নতা তৈরি হয়েছে।
উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আইনি অস্পষ্টতাও রয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অনুমতি নেই। নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তারা প্রার্থীও হতে পারবেন না। তবুও উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা তপশিল ঘোষণার আগে নাকি মনোনয়ন দাখিলের আগে, তা পরিষ্কার নয়।
সভা-সমাবেশ, দলীয় বৈঠক ও জোট নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় আগামী এক–দু’দিনেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ নির্বাচনী অঙ্গনে নতুন গতি আনতে পারে, আর মাহফুজ আলমের সিদ্ধান্ত সরকার ও জোট রাজনীতিতে আলাদা প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au