শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা ঘিরে উত্তাল ঢাকা, আওয়ামী লীগ কি তাহলে ফিরছে?
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ১১ ডিসেম্বর- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সচিবালয়ে কর্মরত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে বুধবার তাঁর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায়ও তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম জানান, অর্থ উপদেষ্টা তাঁর কক্ষে অবস্থান করছেন। বাইরে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং কেউই স্থান ছাড়েননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যায় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে বসেন। আন্দোলনকারীদের জানানো হয়, আগামী সোমবার ভাতা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আশ্বাস মানেননি। তাঁদের দাবি ছিল আজই প্রজ্ঞাপন দিতে হবে। তাই তারা অবস্থান চালিয়ে যান।
অর্থ বিভাগের ভবনটি সচিবালয়ের ১৮ তলা ভবনের মধ্যে অবস্থিত। এই ভবনের চারতলায় অর্থ উপদেষ্টার দপ্তর। দুপুর দুইটার দিকে কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে স্লোগান শুরু করেন। তার আগে উপদেষ্টা আগারগাঁওয়ে জাতীয় ভ্যাট দিবসের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। তাঁর ফেরার পর থেকেই কর্মচারীরা জড়ো হতে থাকেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রায় তিন শতাধিক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবালয়ে সমবেত হন। পরে মিছিল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে এসে অবস্থান নেন। তারা হ্যান্ডমাইকে সচিবালয় ভাতার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
কর্মচারীরা বলেন, উপদেষ্টা, সচিব বা মন্ত্রীরা রাতে যতক্ষণ কাজ করেন, ততক্ষণ তাদেরও দপ্তরে থাকতে হয়। অন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন ভাতা পেলেও সচিবালয়ে কর্মরত নন-ক্যাডারদের এ সুবিধা নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করছেন।
আন্দোলনকারীদের এক জন জানান, এর আগেও রেশনের দাবিতে তারা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। তখন তিনি বিবেচনার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি।
নতুন বেতন কমিশনের কাজ এখন শেষের দিকে। তবে অর্থ উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের। কয়েক মাস আগে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতেও কর্মচারীরা অর্থ বিভাগের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন। এই সব ক্ষোভ জমে থেকেই আজ আবার নতুন করে আন্দোলনে রূপ নেয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au