মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করছেন। এ জন্য আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন শেষ হলেই তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মনোভাবের কথা জানান রাষ্ট্রপতি।
বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে বলেন, তিনি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে আগ্রহী, তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক কারণে তাকে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
তার ভাষায়, “আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এখনো এ অবস্থানে আছি।”
মো. সাহাবুদ্দিন জানান, প্রায় সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। তার প্রেস ডিপার্টমেন্টও কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
“এক রাতের মধ্যে সব কনস্যুলেট ও দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা গেছে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি,” বলেন তিনি।

বঙ্গভবনের দরবার হলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: পিআইডি।
রয়টার্স জানায়, এই অভিযোগ সম্পর্কে ইউনূসের প্রেস অফিসের মন্তব্য জানতে চাইলেও তারা কোনো সাড়া পায়নি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে গেলে সাহাবুদ্দিনের অবস্থান গুরুত্ব পায়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনি ছিলেন শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
পেশায় আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্বে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পাবনা জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তিনি ভোটের পর পদ ছাড়ার ইচ্ছা স্পষ্ট করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স