আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের পর এবার আরও কয়েকটি ট্যাংকার আটকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ছয়টি সূত্র আল জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১২ ডিসেম্বর এই খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। এই সম্পর্কিত তারা দুটি ছবিও প্রকাশ করেছে। যদিও ছবিগুলো তারা ভেরিফাইড নয় বলে জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, এ সপ্তাহে জব্দ হওয়া ট্যাংকারটি ছিল ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বহনকারী প্রথম কোনো জাহাজ যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অভিযান চালাল। ২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই কঠোর চাপ দিচ্ছে।
জাহাজ জব্দের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনে যুক্ত থাকা জাহাজমালিক, অপারেটর এবং নৌসংস্থাগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন যাত্রায় না গিয়ে বন্দরের কাছেই অপেক্ষা করছে।
সূত্ররা জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যেতে পারে। এসব ট্যাংকার কেবল ভেনেজুয়েলার তেলই নয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরান বা অন্য দেশগুলোর তেলও বহন করে থাকে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, এ জব্দকে তারা “চুরি” বলে মনে করে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিস্তারিত বলবেন না। তবে প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞা নীতিই তারা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে। তার ভাষায়, নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর মাধ্যমে কালোবাজারের তেল পরিবহন হতে দেয়া হবে না, কারণ সেই অর্থ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছে যায়।
মার্কিন বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরে এ ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি থেমে গেলে বা কমে গেলে মাদুরো সরকারের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র আরও ছয়টি সুপারট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অভিযোগ হলো, এসব জাহাজ সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল তুলেছে। চারজন ভেনেজুয়েলান নাগরিকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
এই জব্দের ফলে ভেনেজুয়েলার প্রধান রপ্তানি গ্রেড মেরে তেলের প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অন্তত একটি শিপিং কোম্পানি তিনটি নতুন চালান স্থগিত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো ভেনেজুয়েলার উপকূলেই অবস্থান করছে।
লক্ষ্যে ‘শ্যাডো ফ্লিট’
মার্কিন নজরদারি এখন মূলত সেই শ্যাডো ফ্লিটকে ঘিরে, যারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল চীনে সরবরাহ করে। একটি জাহাজ একই সঙ্গে ইরান, ভেনেজুয়েলা এবং রাশিয়ার জন্য তেল পরিবহন করে থাকে। এসব জাহাজ বেশিরভাগই পুরোনো, মালিকানা অস্পষ্ট এবং অনেক সময় বীমাহীন অবস্থায় চলে। তাই কোনো বন্দরে ঢোকাতে গেলে বিশেষ প্রস্তুতি দরকার হয়।
প্রথম জব্দ হওয়া জাহাজ ‘স্কিপার’কে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দরে নিয়ে গিয়ে তেল আনলোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সেই তেল বাজেয়াপ্ত করা হবে।
জব্দের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং প্রতিবেশী গায়ানার সীমানাজুড়ে নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। তাদের যুদ্ধজাহাজ এমনকি ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আরেকটি ট্যাংকার ‘সীহর্স’-কেও কিছু সময় ধরে আটকে রেখেছিল।
আইনি বিতর্ক
ভেনেজুয়েলা বলছে, এটি আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা। তবে আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্র অনুমোদিত অভিযান হওয়ায় এটিকে আইনি সংজ্ঞায় জলদস্যুতা বলা যায় না।
ব্রিটেনের নটিংহাম ল স্কুলের বিশেষজ্ঞ লরেন্স অ্যাটকিন-টাইয়েলেট বলেন, “যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে, তাই এটি আইনি অর্থে জলদস্যুতা নয়। এখানে শব্দটি কেবল রাজনৈতিক ভাষায় ব্যবহার করা হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে ২০টির বেশি অভিযানে মাদকবাহী নৌকার ওপর হামলা চালিয়েছে যেখানে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এসব হামলার আইনি বৈধতা নিয়েও বিতর্ক আছে।
সব মিলিয়ে, আরও জাহাজ জব্দের সিদ্ধান্ত মাদুরো সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াবে। একই সঙ্গে তেল বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au