মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- বহুধাবিভক্ত জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে পর্দার আড়ালে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরালো হচ্ছে। দলটির নির্বাচনী প্রতীক লাঙ্গল ঘিরে শুরু হয়েছে জটিল হিসাব–নিকাশ ও নীরব লবিং। ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সমীকরণ সামনে রেখে এই প্রতীক কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দলটির বিভিন্ন অংশের মধ্যে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির যাত্রা শুরু হয়। সামরিক শাসন থেকে বেসামরিক রাজনীতিতে রূপান্তরের অংশ হিসেবে গঠিত দলটি এরশাদের জীবদ্দশাতেই একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে দলটির প্রধান অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদের ভাই জিএম কাদের। পাশাপাশি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পৃথক দুটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে জাতীয় পার্টির আরেকটি নতুন অংশ।
এই বিভক্তির মধ্যে রওশন এরশাদের অবস্থানও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পারিবারিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জিএম কাদেরের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ে। যদিও তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি ক্ষুদ্র অংশ রয়েছে, যার সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশীদ বর্তমানে কারাবন্দি। নতুন করে গঠিত আনিসুল ইসলাম মাহমুদের অংশে রওশনপন্থিরা যোগ দেননি। অথচ অতীতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদাররা রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক লাঙ্গল এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি অনুযায়ী লাঙ্গল প্রতীক জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনগতভাবে তিনিই প্রতীকের মালিক। তবে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এই প্রতীকের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহলে লবিং করে তিনি দাবি করছেন, প্রকৃত জাতীয় পার্টি তাদেরই নেতৃত্বে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, প্রভাবশালী একটি মহলের আশ্বাস পেয়ে ব্যারিস্টার আনিস সমর্থকদের কাছে এমন বার্তাও দিচ্ছেন যে, তাকে লাঙ্গল প্রতীক না দেওয়া হলে কাউকেই তা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রতীকটি আটকে দেওয়ার কৌশল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এই তৎপরতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য জোট, আসন ভাগাভাগি এবং ক্ষমতার সমীকরণে জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীক নিয়ন্ত্রণে রাখা মানেই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা।
সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির ভেতরের বিভাজন ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নেপথ্য এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কার লাভ আর কার ক্ষতি ডেকে আনবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পরবর্তী চালের ওপর।
সুত্রঃ মানবজমিন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au