বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাজ্য। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- যুক্তরাজ্যে সরকারের নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সতর্কতা অনুযায়ী, এই ক্ষমতার কারণে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম পটভূমির প্রায় ৯০ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
রানিমিড ট্রাস্ট ও রিপ্রিভ নামের দুটি মানবাধিকার সংস্থার যৌথ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে এমন ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারেন। শর্ত শুধু এটুকু যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে সরকার মনে করবে। ওই ব্যক্তি বাস্তবে কখনো সেই দেশে বসবাস করেছেন কি না, তা বিবেচ্য নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আইনি কাঠামোর আওতায় যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ সম্ভাব্য ঝুঁকিতে আছেন। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের নাম আলাদাভাবে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ব্যবস্থা বাস্তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি পদ্ধতিগত হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগে এক ধরনের দ্বিস্তরের নীতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর পাঁচজনের মধ্যে প্রায় তিনজন এই আইনের আওতায় ঝুঁকিতে থাকলেও শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
রিপ্রিভের কর্মকর্তা মায়া ফোয়া বলেন, বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে যদি কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। তিনি মনে করেন, নাগরিকত্ব বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত গোপনে এবং ব্যাপকভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকায় এটি মৌলিক অধিকারকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম বলেন, নাগরিকত্ব কোনো বিশেষ সুযোগ নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু একের পর এক সরকার এই ধরনের দ্বিস্তরের নীতি চালু করে এমন একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর বৈষম্যের পথ তৈরি করতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আইন ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা না করা হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া বা দীর্ঘদিন বসবাসকারী লাখো মানুষও নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ী অনিশ্চয়তায় ভুগবেন।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই