ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ভোটার হয়েও কি কেউ এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না?
বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, সব নাগরিক যেমন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না, তেমনি সব ভোটারও সব ক্ষেত্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান না। নির্দিষ্ট কিছু আইনি শর্ত ও সীমাবদ্ধতার কারণে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন কেউ কেউ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং হিজড়া পরিচয়ে নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।
নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশের নাগরিক, যাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে, তারাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এমনকি কারাগারে থাকা বন্দিরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন বা ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়তে পারে।
আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে যদি উপযুক্ত আদালত অপ্রকৃতিস্থ বা মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষণা করেন, তাহলে তিনি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। একইভাবে, কোনো ব্যক্তি দেউলিয়া ঘোষিত হলে এবং দায়মুক্তি না পেলে তার ভোটাধিকার স্থগিত থাকবে।
এ ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি স্বেচ্ছায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি বাংলাদেশের ভোটার হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
ভোটার তালিকা আইনের ১৩ ধারার ‘ঘ’ উপধারায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করছেন।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বাংলাদেশিরা যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে থাকেন এবং ভোটার তালিকায় তাদের নাম থাকে, তাহলে তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে ভোটাধিকার থাকলেও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা কোনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচন কমিশন একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই যে সবাই ভোট দিতে পারবেন, বিষয়টি তেমন নয়। সংবিধান ও নির্বাচনী আইন নির্ধারিত কিছু সীমাবদ্ধতা রেখেছে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভোটাধিকারকে সীমিত বা বাতিল করতে পারে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের জন্য এসব আইনি বিষয় জানা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au