চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- নির্বাচনী তফসিল ‘প্রত্যাখ্যান’ করলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়নি আওয়ামী লীগ। দলটি বলছে, তারা নির্বাচনে বিশ্বাসী, তবে বর্তমান ঘোষিত তফসিলের অধীনে নির্বাচনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক মনে করছে এবং নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের জনগণের বৃহত্তম অংশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তা দলটি প্রত্যাখ্যান করছে। দলের নেতাদের ভাষায়, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন একটি অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে আয়োজিত অবৈধ নির্বাচন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ভারতে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন পশ্চিমা দেশেও অবস্থান করছেন। এ অবস্থান থেকেই তারা দলের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা করছেন।
তবে তফসিল প্রত্যাখ্যান করা হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বয়কটের কোনো ঘোষণা আসেনি। এর আগে গত অক্টোবরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হয়, তাহলে দলটির লাখ লাখ সমর্থক নিজেরাই এই নির্বাচন বয়কট করবে।
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারছে না।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই তাদের মূল আপত্তি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বলেন, এটি একটি অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে হলে তা অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হয়। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি ভোটারের সমর্থন রয়েছে এমন একটি দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তা প্রহসনের বাইরে কিছু নয়। তার মতে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে জনগণই তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং প্রতিহত করবে।
ওবায়েদুল কাদের আরও বলেন, এই একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করলেও ভারতের নাম উল্লেখ করেননি।
নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে দলীয় প্রতীক বা ব্যানারে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই দলটির। এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
নির্বাচনে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগ নিজেদের নির্বাচনমুখী দল হিসেবেই তুলে ধরছে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাস করে এসেছে এবং অতীতেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। তার ভাষায়, সাধারণভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি এবং সহযোগী দলগুলোর ভোট যোগ করলে তা প্রায় অর্ধেকের সমান হয়।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে সেটিকে অর্থবহ নির্বাচন বলা যায় না। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে রেখে, দলের নিবন্ধন বাতিল করে যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে দলটি তিনটি জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে আয়োজন করেছিল, যেগুলোর মধ্যে দুটি নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর বর্জনের কারণে একতরফা হয়েছিল এবং আরেকটিতে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও দলটির সমর্থক ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে। নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের নিরাপত্তা, মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষার আশ্বাস দিয়ে নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, নৌকার সমর্থন এখন আর আগের মতো নেই এবং তা দশ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ উল্লেখ করে ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। ছবিঃ সংগৃহীত
বয়কট নয়, প্রতিহতের অবস্থান
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচন বয়কটের পথে যেতে চান না। বরং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঘোষিত তফসিল প্রতিহত করার অবস্থান নিয়েছেন। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং জনমতের ওপর আস্থা রাখে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট হলে আওয়ামী লীগ অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।
দলের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথও একই সুরে বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিশ্বাস করে বলেই বয়কটের কথা ভাবছে না। তবে নিবন্ধন বাতিল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে একটি অবৈধ সরকার তাদের নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষায়, দলনেত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দলের রণকৌশল ঠিক করে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের পরিবর্তে প্রতিহত ও প্রতিরোধের পথেই এগোচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au