এক সাহসী পথচারী এক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে এলোপাথারী গুলিবর্ষণের সময় এক সাহসী পথচারী এক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। রোববার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে আরও অন্তত ২৯ জনকে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি পার্কিং এলাকার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এক বন্দুকধারী দূরের দিকে শটগান দিয়ে গুলি ছুড়ছিল। সে সময় কাছেই একটি গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। হঠাৎ তিনি দৌড়ে গিয়ে বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার হাত থেকে শটগানটি কেড়ে নেন। এরপর তাকে ঐ হামলাকারীকে দুটি গুলিও করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বন্দুকধারী মাটিতে পড়ে গেলে ওই ব্যক্তি বন্দুক তাক করে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করেন। পরে তিনি বন্দুকটি একটি গাছের পাশে রেখে দু’হাত তুলে দাঁড়িয়ে সহায়তার সংকেত দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হানুকা উৎসব চলাকালে এই হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন হামলাকারীও রয়েছে। ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, হানুকার প্রথম দিনে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আনন্দ ও ধর্মীয় উদযাপনের দিনে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বন্ডাই সৈকতে যে ভয়ংকর সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা কল্পনাতীত। নিহত ও আহতদের পরিবার যে শোক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ আজ জীবিত আছেন শুধু দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে। বিপদের মুখে দৌড়ে গিয়ে অন্যকে রক্ষা করা সাধারণ মানুষরাই আজ সত্যিকারের নায়ক।
এদিকে আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরা দুই ব্যক্তি সৈকতের একটি সেতু পার হয়ে গুলি ছুড়ছে। গুলির শব্দের সঙ্গে মানুষের চিৎকার শোনা যায়।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী রয়েছেন। অপর হামলাকারী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তৃতীয় কোনো হামলাকারী ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, এই কাপুরুষোচিত সহিংসতা সিডনিতে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের অসাধারণ সাহস ও মানবিকতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, এত অন্ধকার ও দুঃখের মাঝেও এমন মানুষ আছেন, যারা সম্পূর্ণ অপরিচিত একজনকে বাঁচাতে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত। এই সাহসই অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃত শক্তি।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান