চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করেছে, তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে যে শক্তি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন ভোল পাল্টে এমন ভান করছে যেন তারাই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। তবে বাংলাদেশের মানুষ এই দাবি বিশ্বাস করবে না বলেও তিনি মনে করেন।
রোববার ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, যারা তার জন্ম ও দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তার মতে, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ নতুন রূপে হাজির হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু ইতিহাস তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এবার নির্বাচন হবে মূলত দুই শক্তির মধ্যে। একটি শক্তি বাংলাদেশের পক্ষে, উদার গণতন্ত্রের পক্ষে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে। আরেকটি শক্তি হচ্ছে তারা, যারা সবসময় ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এসেছে এবং দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চায়।
তিনি বলেন, একাত্তরের ইতিহাস কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সামনে আজ প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে তারা কোন শক্তির পাশে থাকবেন। স্বাধীনতার পক্ষে থাকা শক্তির সঙ্গে থাকবেন, নাকি যারা সেই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গে আপস করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিএনপি আশাবাদী। তার মতে, সেই সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটবে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে। এ কারণে এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে এক ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষকে ঠিক করতে হবে তারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষ নেবে, নাকি সেই শক্তির পাশে দাঁড়াবে যারা অতীতে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং বারবার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।
মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একাত্তর সালেও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সময়ও এই শক্তি মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করা এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা শক্তির চরিত্র একই। আজ তারা নতুন রূপে হাজির হলেও ইতিহাস তাদের পরিচয় স্পষ্ট করে দিয়েছে।
দলীয় নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, এটি বিএনপির জন্য বড় অনুপ্রেরণার বিষয় এবং ওই দিন এমন সংবর্ধনা দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশে আগে কোনো নেতা পাননি।
তিনি আরও বলেন, একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন, অন্যদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তার ভাষায়, অনিশ্চয়তার মধ্যে এই খবর বিএনপির জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জয়নুল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের অবসরপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, এম এ হালিম, এম এ হাকিম খান এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সদস্যসচিব কেএম কামরুজ্জামান নান্নু।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au