চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং এমন দু-একটি সহিংস ঘটনা নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো নয়।
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে ইয়ুথ ভোটার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি। অনুষ্ঠানে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন তিনি।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক বা শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, দুশ্চিন্তা করার সুযোগ নেই, নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক ভালো। তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারত না, আর এখন মানুষ তুলনামূলক শান্তিতে আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম।
তরুণ সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে সিইসি বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের শক্তির ওপর। উনসত্তর, একাত্তর এবং সাম্প্রতিক সময়েও তরুণরা তাদের শক্তি ও নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কারণ এবার প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোটদান ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এবং একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সাহসী উদ্যোগ সফল করতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা এগিয়ে এলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা আরও সহজ হবে।
হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গে অতীতের উদাহরণ টেনে সিইসি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা আগেও ঘটেছে। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার বা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং এগুলো নির্বাচন বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে না।
সিইসি আরও বলেন, মিডিয়া ও বিভিন্ন মহলে হয়তো নির্বাচন নিয়ে কিছু আশঙ্কা আছে, তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সংশয় নেই। কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন উপহার দিতে চায়।
তিনি জানান, এরই মধ্যে শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীগুলো নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রস্তুত বলে নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে।
ডাকযোগে ভোটদান প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কারাবন্দি এবং নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গত ৫৪ বছরে এমন সুযোগ কখনো ছিল না।
সবশেষে সিইসি বলেন, এসব উদ্যোগের কারণে এবারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au