আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে ভয়াবহ হামলার আগে সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ নিতে ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন সাজিদ আকরাম ও তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম। অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম এবিসি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ঘটনার পর তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আকরাম পরিবারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখছে। তদন্তে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে বাবা ও ছেলে একসঙ্গে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যান। পরে তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করেন, যেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এবিসিকে জানান, সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে অস্ত্র ও সামরিক কৌশল সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নেন। ফিলিপাইনের অভিবাসন ব্যুরো নিশ্চিত করেছে, ১ নভেম্বর তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিলিপাইনে প্রবেশ করেন। সে সময় তাদের গন্তব্য হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাভাওয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
অভিবাসন ব্যুরোর মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভাল জানান, ২৮ নভেম্বর তারা দাভাও থেকে ম্যানিলায় সংযোগ ফ্লাইটে ফিলিপাইন ত্যাগ করেন। তখন তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল সিডনি। তিনি আরও জানান, সাজিদ আকরাম একটি ভারতীয় পাসপোর্টে ফিলিপাইনে প্রবেশ করেছিলেন, আর নাভিদ আকরামের কাছে ছিল অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট।
দাভাও শহরটি ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ের রাজধানী। ১৯৯০ এর দশক থেকে এলাকাটি ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে দক্ষিণ ফিলিপাইনে ওই বাবা-ছেলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও চলাচলের বিস্তারিত তথ্য নিরাপত্তা সূত্রগুলো প্রকাশ করেনি।
এর আগে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল, নাভিদ আকরামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইসলামিক স্টেট ঘনিষ্ঠ একটি নেটওয়ার্কের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। ওই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উইসাম হাদ্দাদ ও ইউসুফ ওয়েইনাত নামের দুজনের নাম উঠে আসে। তবে এক আইনজীবীর মাধ্যমে হাদ্দাদ দাবি করেছেন, গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি কিছুই জানতেন না।
রোববার বন্ডাই সৈকতে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় হামলাকারীদের একজন সাজিদ আকরামও নিহত হন। তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার রাতে এবিসির এক অনুষ্ঠানে বলেন, ছয় মাস ধরে চলা তদন্তে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও বাবা-ছেলের উগ্রবাদে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পায়নি। হামলার আগে তারা কেউই সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় ছিলেন না। এমনকি সাজিদ আকরামের ব্যবহৃত অস্ত্রটিও নিবন্ধিত ছিল বলে জানান তিনি।
তবে মঙ্গলবার অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, হামলাকারীরা ইসলামিক স্টেটের আদর্শ দ্বারা প্ররোচিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। একই দিন রেডিও ন্যাশনালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ককে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেননি, আকরামদের ফিলিপাইন সফর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে ছিল কি না। তিনি শুধু জানান, ২০১৯ সালে নাভিদ আকরামকে নিয়ে এএসআইওর তদন্তের পর তার ঝুঁকির প্রোফাইলে বড় পরিবর্তন এসেছে।
এবিসি নিউজ আরও জানিয়েছে, বন্ডাই সৈকতে হামলার সময় আকরামদের গাড়িতে ইসলামিক স্টেটের দুটি পতাকা পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, বাবা ও ছেলে দুজনই ওই সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au