সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম
‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি প্রদর্শন করে তাতে ময়লা নিক্ষেপ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই প্রদর্শনীর নাম দেন ‘ঘৃণাস্তম্ভ’।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছিল, সেই রাজাকার ও আলবদরদের আজও কেউ কেউ নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এই প্রবণতার প্রতিবাদ জানাতেই বিজয় দিবসের দিনে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শন করে সেখানে ময়লা ও আবর্জনা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, পুরোনো কলাভবনের সামনে একটি খুঁটির সঙ্গে রাজাকারদের মোট ১০টি ছবি ঝোলানো রয়েছে। ছবিগুলোর নিচে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা ও আবর্জনা। পাশে রাখা আছে একটি ডাস্টবিন, যা পুরো আয়োজনের প্রতীকী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে গোলাম আযম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি রাখা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কয়েকটি ছবিতে তাদের চেহারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ঘৃণার প্রকাশ আরও প্রতীকীভাবে ফুটে ওঠে।
এ বিষয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আল-বেরুনী হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুন্তাসির বিল্লাহ খান বলেন, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের স্থান ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপেই। তাঁর ভাষায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ অর্জিত হয়েছে, সেই দেশে রাজাকারদের কোনো ঠাঁই নেই। এ কারণেই প্রতীকীভাবে তাদের ছবি প্রদর্শন করে ময়লা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নবীন কিশোর গোস্বামী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের জন্য এই আয়োজন একটি ঘৃণাস্তম্ভ। তাদের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ থেকেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিজয় দিবসে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থানকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন উপস্থিতরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au