আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে নিহত শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। নিহতের বোন চম্পা দাস বলেছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষই তার ভাইকে কার্যত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শুক্রবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে চম্পা দাস বলেন, কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের বিরোধ চলছিল বলে তারা শুনেছেন। সেই বিরোধ থেকেই দিপুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, তার ভাই বিএ পাস করা একজন মানুষ ছিলেন এবং সাধারণ বাটন মোবাইল ব্যবহার করতেন। ধর্ম সম্পর্কে তার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল এবং নবী সম্পর্কে কটূক্তি করার মতো মানুষ তিনি নন।
চম্পা দাসের অভিযোগ, কোম্পানির লোকজন চাইলে তার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারতেন। তা না করে তাকে উত্তেজিত জনতার সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলেই এমন নির্মম মৃত্যু হয়েছে।
নিহত দিপু চন্দ্র দাসের বয়স ছিল ২৮ বছর। তিনি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের বাসিন্দা রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। গত দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, দিপুই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তিনি বলেন, কখনো কল্পনাও করেননি তার ছেলেকে এভাবে মারা হবে। ধর্ম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে দেশে আইন রয়েছে, সেই আইনে বিচার হওয়ার কথা ছিল। গরিব বলেই তারা ছেলের জীবন বাঁচাতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
দিপুর স্ত্রী মেঘনা রানী বলেন, তার একমাত্র সন্তান এখন বাবা হারা। অভাবের সংসার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন, তা ভেবেই তিনি দিশেহারা। তিনি রাষ্ট্রের কাছে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে কারখানার গেটে গিয়ে চেষ্টা করা হলেও অনুমতি মেলেনি। তবে কারখানার সিকিউরিটি গার্ড ফিরোজ মিয়া দাবি করেন, দিপু চন্দ্র দাসকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি ক্ষমা চাননি। এরপর বিষয়টি কারখানার ভেতর ও বাইরে ছড়িয়ে পড়লে গেটে লোকজন জড়ো হয়ে ভাঙচুর শুরু করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তাকে জনতার হাতে তুলে দেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো থাকায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং রাত আড়াইটার দিকে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au