ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২০ ডিসেম্বর- গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘ সহিংসতার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক এই অস্থিরতার সূচনা হয় শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চ নামে পরিচিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র এবং কট্টর ইসলামপন্থী নেতা। শেখ হাসিনা পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতায় তিনি দ্রুতই একটি প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে উঠে আসেন। ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত হাদি যুবসমাজভিত্তিক আন্দোলন ও ইসলামপন্থী সক্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। সামনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে স্পষ্টভাবে ভারতবিরোধী সুর দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে ভারতের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে। এই ক্ষোভের প্রতীকী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় ভারতের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো। ঢাকাসহ রাজশাহী ও খুলনায় ভিসা সেন্টারগুলো বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে, যা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে দেশের শীর্ষ কয়েকটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ধোঁয়ায় ভরা ভবনের ভেতরে সাংবাদিকরা আটকে পড়েন বলেও খবর আসে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কীভাবে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ দ্রুত নাগরিক শৃঙ্খলার বড় ধরনের ভাঙনে রূপ নেয়, যেখানে সংখ্যালঘু, কূটনীতিক ও গণমাধ্যম সবাই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়।
দিল্লিতে কৌশলগত উদ্বেগ
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর সতর্কতা জারি করেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সামনে এত বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের অস্তিত্বগত কোনো হুমকি না থাকলেও এই চ্যালেঞ্জের প্রকৃতি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মগত রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের দিক থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি।
কমিটি মনে করে, যুবনির্ভর জাতীয়তাবাদী আবেগ, মূলধারার রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তির প্রবেশ এবং চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধির সমন্বয় ঢাকায় ভারতের ঐতিহ্যগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ে ভারত তার নিকট প্রতিবেশীতে কৌশলগত গুরুত্ব হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
শশী থারুর নিজেও প্রকাশ্যে এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের আন্দোলন নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। এক ছাত্রনেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে, যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, থারুর একে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশ সরকার যেন এমন শত্রুতামূলক বয়ান ও কার্যক্রম ঠেকাতে গঠনমূলক ভূমিকা নেয়, যা ভারতের মৌলিক স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গ
ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি বর্তমান অস্থিরতাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগাতে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করতে পারে। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং ভারতের জন্যও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে।
সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au