আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সন্ত্রাসী হামলার আট দিন পর ইহুদি সম্প্রদায়সহ দেশবাসীর প্রতি ক্ষমা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বলেছেন, এই হামলার পর ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানরা এবং বৃহত্তর সমাজ যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তার দায় একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন।
সোমবার ক্যানবেরায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আলবানিজ বলেন, রোববার রাতে বন্ডাই হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাঁরা তাঁকে লক্ষ্য করে দুয়ো ও বিদ্রূপ করেছেন, তাঁদের আবেগ তিনি বুঝতে পারেন। তাঁর ভাষায়, মানুষ কষ্টে আছে, ক্ষুব্ধ আছে, আর সেই ক্ষোভের একটি অংশ তাঁর দিকেও এসেছে। তিনি বলেন, এই নৃশংস ঘটনা তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ঘটেছে এবং সে কারণেই তিনি দায়বোধ করছেন। ইহুদি সম্প্রদায় ও পুরো জাতি যা সহ্য করেছে, তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বন্ডাই হামলার পর জাতীয় পর্যায়ে একটি রয়্যাল কমিশন গঠনের দাবি উঠলেও আলবানিজ সেই পথে না গিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে একটি জাতীয় তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডেনিস রিচার্ডসনের নেতৃত্বে এই তদন্ত দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্রস্তাবিত রয়্যাল কমিশনের সঙ্গে কমনওয়েলথ সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, রিচার্ডসনের প্রতিবেদন ভবিষ্যৎ তদন্তে কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তরুণদের মধ্যে যে নজিরবিহীন উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনতে মন্ত্রিসভা বিস্তৃত পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যাবে, যাতে সর্বোচ্চ ঐকমত্য তৈরি করা যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড জানান, নতুন এই আইন প্যাকেজ প্রণয়নে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। প্রস্তাবিত আইনে সুরক্ষিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানালে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, বিদ্যমান অপরাধে শাস্তি বাড়ানো হবে এবং সাজা নির্ধারণে বিদ্বেষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘৃণা উসকে দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নতুন ‘ভিলিফিকেশন’ ধারা যুক্ত করার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে ইহুদি সম্প্রদায়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করা হবে বলে জানান রোল্যান্ড।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের উগ্রপন্থায় প্ররোচিত বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে নতুন একটি গুরুতর অপরাধের ধারা যুক্ত করা হবে। তাঁর ভাষায়, ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ১২০ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন ছিল শিশু। কিন্তু বর্তমানে আদালতে থাকা ৩৩ জনের মধ্যে ১৭ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তরুণদের এই অভূতপূর্ব উগ্রবাদ বন্ধ করতেই হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্বেষমূলক সংগঠনগুলোর একটি নতুন নিবন্ধন তালিকা তৈরির পরিকল্পনা চলছে, যাতে এসব সংগঠনে যোগ দেওয়া বেআইনি ঘোষণা করা যায়। তিনি বলেন, হিজবুত তাহরির ও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট নেটওয়ার্ক বা নব্য নাৎসি গোষ্ঠীর অতীত কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তাঁর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব সংগঠন সন্ত্রাসী সংগঠনের সংজ্ঞায় পুরোপুরি পড়ে না, কিন্তু ঘৃণার প্রচার চালায়, তাদের কার্যক্রমও অবৈধ ঘোষণার সুযোগ রাখতে চান তিনি।
এদিকে বন্ডাই হামলা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে ঘিরে বিরোধী জোটের সমালোচনা তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, এখন প্রয়োজন দ্রুততা ও ঐক্য, বিভাজন বা বিলম্ব নয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে আবারও জাতীয় রয়্যাল কমিশনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়াকে অপর্যাপ্ত বলে আক্রমণ করেছেন।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং হামলা ও ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতির উত্তাপ কমাতে নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সাবেক হাই কোর্ট প্রধান বিচারপতি রবার্ট ফ্রেঞ্চও একটি রয়্যাল কমিশনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এমনকি লেবার দলের দুই এমপি মাইক ফ্রিল্যান্ডার ও এড হুসিকও দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে রয়্যাল কমিশনের সমর্থন জানিয়েছেন।
বন্ডাই হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নিরাপত্তা, উগ্রবাদ এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au