চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার পোদ্দার তার সহযোগী আইনজীবী ফালিকুল ইশবা ও মোহাম্মদ সানজারের সঙ্গে যৌথভাবে এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারে এই ঘটনাকে আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার একটি গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। এ কারণে তারা হাইকোর্টের কাছে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চাইবেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলা হবে।
এজাহারে বলা হয়, দীপু দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হলেও সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ, বিচার বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। তাকে কখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কিংবা কোনো মামলায় অভিযুক্তও করা হয়নি। তবুও প্রকাশ্য দিবালোকে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণভাবে বিচারবহির্ভূত সহিংসতার উদাহরণ।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। দৃশ্যমান উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা কিংবা দীপু দাসকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গুজবের ওপর ভর করে একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মামলার আবেদনকারী আইনজীবী বিপ্লব কুমার পোদ্দার বলেন, এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থতার ঘটনা নয়, বরং একটি সিস্টেমিক ভাঙনের প্রতিচ্ছবি। তার মতে, এই ধরনের ঘটনায় মব ভায়োলেন্স স্বাভাবিক হয়ে উঠছে এবং আইনের শাসন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের নৈতিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, মামলার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একজন সদস্য, একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের অনুরোধ জানানো হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au