ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন ২৩ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ (AFERMB)–এর একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিদর্শন করেছে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর উদ্দেশে প্রেরিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়।
AFERMB–এর প্রতিনিধিদল স্মারকলিপিতে ভালুকা, ময়মনসিংহে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংঘটিত হিন্দু সংখ্যালঘু যুবক ও কারখানা শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্মারকলিপিটি বাংলাদেশ হাইকমিশনের মন্ত্রী/চার্জে দ্য অ্যাফেয়ার্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন, সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং হাইকমিশনারের প্রত্যাবর্তনের পর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
AFERMB–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার একটি ভিত্তিহীন ও সাজানো অভিযোগের মাধ্যমে উসকানি দিয়ে প্রকাশ্যে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তাকে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগটি এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে ভুক্তভোগী আসলে কী বলেছিলেন, তা কেউই স্পষ্ট করতে পারেনি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা দীপু দাসের ধর্মীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা ঘটায়। এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একটি ভয়াবহ ও ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ।
স্মারকলিপিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ক্রমাগত জনসংখ্যা হ্রাসের পেছনে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে দায়ী করা হয়। এতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পর সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্তরা সহজেই জামিন বা নামমাত্র শাস্তি পেয়ে যায়, ফলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়।
AFERMB অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পাঁচ দফা জরুরি দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে; দীপু চন্দ্র দাসের পরিবার, বিশেষ করে তার দেড় বছর বয়সী কন্যার পূর্ণ দায়িত্ব ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; সকল অপরাধী ও উসকানিদাতাকে স্পিডি ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচার করা; গণপিটুনি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শূন্য সহনশীলতার অবস্থান স্পষ্ট করা; সংখ্যালঘু নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ধর্ম অবমাননার অপব্যবহার বন্ধ করা; এবং সব ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপির শেষাংশে বলা হয়, বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশজুড়ে তাদের পরিবার ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে AFERMB আশা প্রকাশ করে, সরকার নৈতিক সাহস ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে সকল নাগরিকের জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au