আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন, ২৪ ডিসেম্বর-প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে সহিংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করেন আইরিন খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারকে দেরি না করে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরও হামলার শিকার হন।
আইরিন খান বলেন, এসব হামলা হঠাৎ করে ঘটেনি। বিচারহীনতা দূর করতে ব্যর্থতা এবং সংবাদমাধ্যম ও শিল্প-সাহিত্যের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের দুর্বলতার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের যেমন নিন্দা জানান, তেমনি তাঁর মৃত্যুর পর সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে চালানো সংগঠিত সহিংসতারও কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, জনরোষকে সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক, বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ নির্বাচনমুখী। এতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর ও ভিন্নমতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কয়েক শ সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে নিবর্তনমূলকভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার পুরোনো বিচারহীনতার ধারাই অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেন আইরিন খান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, কার্টুনিস্ট, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নারী অধিকারকর্মীরা রাষ্ট্রীয় নয় এমন বিভিন্ন পক্ষের হুমকি ও সহিংসতার মুখে পড়েছেন বলেও উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর মতে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার যখন নিয়ন্ত্রণহীন থাকে এবং সরকার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো পদক্ষেপ নেয় না, তখন তা সহিংসতায় রূপ নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আইরিন খান সরকারকে হাদি হত্যাকাণ্ড এবং সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সুরক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চায়, তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক প্রার্থী, নারী ও সংখ্যালঘুদের যেন ভয়ভীতি ছাড়া তাঁদের মৌলিক অধিকার চর্চা করতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টি করাও সরকারের দায়িত্ব।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব বিষয়ে জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au