বিশ্ব

কূটনৈতিক এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে বাড়ল ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা

  • 5:36 am - December 24, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৭৪ বার
কূটনৈতিক এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে বাড়ল ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা। ছবিঃ বিবিসি

মেলবোর্ন, ২৪ ডিসেম্বর- বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয় ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে রেখে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর ডাকে এই বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই শহরেই কঠোর অবস্থানে যেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন অভিমুখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের ডাকা বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে কূটনৈতিক এলাকা চাণক্যপুরীতে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বাসে করে রিং রোড এলাকায় জড়ো হয়ে হাইকমিশনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথরোধ করে। দুর্গাবাঈ দেশমুখ রোডের ট্র্যাফিক ক্রসিংয়ে প্রায় পাঁচশ মিটার দূরে তাদের থামিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ‘বয়কট বাংলাদেশ’ ও ‘জাস্টিস ফর দীপু দাস’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয়।

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, এসময় পুলিশ বাধা দেয়

পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাস্তায় বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকে, কেউ কেউ পুলিশের দিকে তেড়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই অস্থিরতা চলার পর কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হলে বেলা গড়িয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। দিল্লি পুলিশের পুরো অভিযানে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নেতৃত্ব দেন।

এর আগে গত শনিবার রাতে একই ইস্যুতে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে হঠাৎ ও অঘোষিত বিক্ষোভ হয়েছিল। সে সময় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীরা বাসভবনের একেবারে কাছাকাছি চলে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও ওঠে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিন্দত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভকারীদের ঘিরে রেখেছে পুলিশ

কলকাতায়ও বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ছিল একই রকম উত্তেজনাকর চিত্র। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সমাবেশ শুরু করে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ তিন স্তরের ব্যারিকেড বসালেও বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। দ্বিতীয় ব্যারিকেড পর্যন্ত পৌঁছালে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের থামিয়ে দেয়। ডেপুটি হাইকমিশন থেকে প্রায় একশ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়।

সন্ধ্যায় একই এলাকায় বামপন্থি দলগুলোর নেতাকর্মীরাও মিছিল করেন। তারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার বিরোধিতা করেন। বামপন্থি নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান। সিপিআই (এম) রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা সেকুলার গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দুই দেশেই ধ্বংস ডেকে আনে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ তিন ধাপের ব্যারিকড দিয়েছিল, তবে বিক্ষোভকারীরা প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে

এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশ মিশনের খুব কাছাকাছি চলে আসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা আগে দেখা যায়নি। এর আগের বছরগুলোতে একই ধরনের বিক্ষোভ হলেও সেগুলো দূতাবাস এলাকা থেকে অনেক দূরে আটকে দেওয়া হতো। তুলনায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তুলছে।

সোমবারও কলকাতায় বাংলাদেশি উপদূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ হয়েছিল, এতে যোগ দিয়েছিলেন  বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা

ভারত সরকারের অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দীপু দাস হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে যুক্তিসঙ্গত বলা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ওই হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ভারতীয় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তবে কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা প্রশ্নে অতীতের তুলনায় বর্তমান অবস্থান ভিন্ন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিল্লিতে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ

সব মিলিয়ে দিল্লি ও কলকাতায় দিনভর বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও পাল্টা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এই শাখার আরও খবর

বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে ইহুদিবিদ্বেষের হুমকি অবমূল্যায়িত হয়েছিল: মাইক বার্জেস

সিডনি: বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের ভয়াবহতা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) মহাপরিচালক মাইক…

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au