চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আবারও পরিকল্পিতভাবে বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২৪ ডিসেম্বর: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আবারও পরিকল্পিতভাবে বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে ঘর দুটির সাতটি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে বাঁশ ও টিনের বেড়া কেটে বেরিয়ে আসায় আটজন বাসিন্দা প্রাণে রক্ষা পান।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘর দুটি গ্রামের বাসিন্দা সুখ শীল ও অনিল শীলের। সুখ শীল দুবাইপ্রবাসী এবং অনিল শীল পেশায় দিনমজুর। ঘটনার সময় দুটি পরিবারের মোট আটজন সদস্য ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত পৌনে চারটার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে গেলে তারা বাইরে বের হতে গিয়ে দেখেন, দরজাগুলো বাইরে থেকে হুক লাগিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এরপর বাধ্য হয়ে তাঁরা টিন ও বাঁশের বেড়া কেটে কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
অনিল শীলের ছেলে, দুবাইপ্রবাসী মিঠুন শীল জানান, মাত্র তিন মাস আগে দেশে এসে তাঁর বিয়ে হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পাসপোর্ট, ঘরের আসবাবপত্র এবং নগদ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকাসহ বহু মূল্যবান জিনিস পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দেখি দরজাগুলো বাইরে থেকে আটকানো। পরে সবাই যে যেভাবে পেরেছি বেড়া কেটে বের হয়ে আসি।”

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি।দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজায় বাইরে থেকে হুক লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসিন্দারা বেড়া কেটে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ঘটনার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ কেজি চাল, ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও কম্বল বিতরণ করেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজায় বাইরে থেকে হুক লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসিন্দারা বেড়া কেটে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তিনি বলেন, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের একাধিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি ঘরে একই কায়দায় আগুন দেওয়া হয়। তার আগের দিন সদর ইউনিয়নের কেউটিয়া বড়ুয়াপাড়া গ্রামে সাধন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির ঘরেও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাউজানে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে।