আল-হাদ্দাদকে নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া প্রাইভেট জেটটি লিবিয়া সরকার ভাড়া করেছিল। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ ডিসেম্বর- তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি প্রাইভেট জেট বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মেদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন লিবিয়ার সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা।
এক বিবৃতিতে ডেবেইবা ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই দুর্ঘটনা লিবিয়ার সামরিক বাহিনী ও দেশের জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, নিহত কর্মকর্তারা নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করে গেছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে তুর্কি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় পাইলটরা জরুরি অবতরণের অনুমতি চাইলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আঙ্কারার কাছের হায়মানা অঞ্চলের কেসিককাভাক গ্রামের পাশে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্য কর্মকর্তারা হলেন গ্রাউন্ড ফোর্সেস চিফ অব স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং সামরিক ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলা বা নাশকতার কোনো আলামত মেলেনি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
লিবিয়ার সরকারি সূত্র জানায়, আল-হাদ্দাদ ও তার সফরসঙ্গীরা তুর্কি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে আঙ্কারায় গিয়েছিলেন। যে প্রাইভেট জেটটি দুর্ঘটনায় পড়ে, সেটি লিবিয়া সরকার ভাড়া করেছিল।
এই দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।