মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টায় তিনি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। তার এ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ করে ইতোমধ্যে তিনি বিমানে উঠেছেন বলেও জানা গেছে।
তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর পূর্বাচল ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। সেখানেই দেয়া হবে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা। নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগান-প্ল্যাকার্ড আর উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো এলাকা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে এক বিশাল জনসমুদ্রে। দলটির প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ২৫ ডিসেম্বর রূপ নেবে রাজনৈতিক মহামিলনে।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান তিনি। এরপর থেকেই সেখানেই অবস্থান করে আসছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিন মাস পর তার দেশে ফেরা হচ্ছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের সমাগমের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব শুধু নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা সরকার গঠন নয়। মানুষের প্রত্যাশা রাজনৈতিক আচরণে শালীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা। তারা মনে করেন, আগামী দিনে দলকে সেই প্রত্যাশার জায়গায় নিতে তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দলের ইতিহাস তুলে ধরে নেতারা বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ছিল দলটির মূল দর্শন। জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও আলোচনায় তারেক রহমান দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের আচরণ যেন দলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অভিজ্ঞতার পর মানুষ এখন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আচরণগত পরিবর্তনও দেখতে চায়।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। ছবিঃ বিবিসি
দলীয় নেতারা আরও জানান, প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, গুম ও হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছেন তিনি। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেড় যুগ পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কী ভূমিকা রাখেন, সে দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au