চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতার চিত্র। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিজ নিজ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসনগুলোর প্রার্থী তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব আসনে দলটির সঙ্গে শেখ হাসিনাবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
এ অবস্থায় তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিকে ঘিরে নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে।
বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় যাচ্ছে এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না। বরং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গী হতে যাচ্ছে এনসিপি। এনসিপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দুই দলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে হওয়া আলোচনায় জোট গঠনের বিষয়ে প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে ৩০ থেকে ৫০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। বৃহস্পতিবার আসন সংখ্যা চূড়ান্ত হলে সন্ধ্যার দিকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
আলোচনায় দুই দলের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় শীর্ষ পর্যায়ের এক বা একাধিক নেতার ক্ষেত্রে রদবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি এই সমঝোতার অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটকে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে।
যদিও এই দুই দলের মধ্যে আগে টানাপোড়েন ছিল, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গঠনের পর সেই বিরোধ থেমে যাবি নাকি চলবে এখন সময়ই বলে দেবে। তাদের দ্বন্দ্বের শুরু জুলাই সনদ সাক্ষর কে কেন্দ্র করে। শুরুতে জামায়াত ও এনসিপি উভয়েই একমত ছিল যে আইনি ভিত্তি ছাড়া এই সনদে তারা অংশ নেবে না। এনসিপি জামায়াতকে অনুরোধ করেছিল, আইনগত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত যেন তারা স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকে। এই অবস্থান স্পষ্ট করতে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও হামিদুর রহমান আযাদের সঙ্গে বৈঠকও করে।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামায়াত হঠাৎ অবস্থান বদলে সনদে স্বাক্ষর করলে এনসিপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এনসিপি তখন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দেয়।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) আন্দোলন, যা জামায়াত শুরু করেছিল, সেটি ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এর উদ্দেশ্য ছিল ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বানচাল করা।”
তিনি আরও বলেছিলেন, “আমরা জনগণের গণ–অভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি কাঠামো দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত সেটিকে নিজেদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।”
এই ঘোষণা এমন এক দিনে আসতে যাচ্ছে যেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দের যুগের নির্বাসিত থেকে দেশে ফিরছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুই দলের জোটের খবর বিএনপির জন্য স্বস্তি বয়ে আনবেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য জোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ঘোষণা এলে নির্বাচনী মাঠে জোটভিত্তিক প্রতিযোগিতার চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au