এমন নির্মম নৃশংসতা কবে দেখেছে বাংলাদেশ?
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তার একটি পরিচয়, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী। আরেকটি পরিচয়, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ। এর বাইরে এদেশের উত্তরাধিকারের ধারা অনুযায়ী…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়; বরং এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট একটি সহিংস পরিস্থিতির ফল।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে পাংশা থানাধীন এলাকায় স্থানীয়দের হাতে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী অমৃত মণ্ডল। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে সরকার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছিলেন, যিনি ওই এলাকায় চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই তিনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা ছিল, যার মধ্যে ২০২৩ সালের একটি হত্যা মামলা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তার সহযোগী সালিমকে আটক করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণপিটুনি বা সহিংসতা সমর্থন করে না। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সরকার আরও অভিযোগ করেছে, একটি বিশেষ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
বিবৃতিতে জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কেউ যেন বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ছড়িয়ে না দেয়। সরকার আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অটল রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au