নির্বাচন কমিশনের ‘ঘূর্ণিঝড়ে’ লন্ডভন্ড মমতার সাজানো প্রশাসন
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রীতিমত যুদ্ধে শামিল ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে তার অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা নীতি, গবেষণা উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকার।
এর আগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছে আবেদন পাঠান। সোমবার ওই আবেদন পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের আবেদন জমা দেন। সেদিন তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজের মূল পদে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে ওই সময় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়াজ আহমদ খান বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড–১ অধ্যাপক হিসেবে নিজের মূল পদে ফিরে যেতে চান। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনেও তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে আগস্টের শেষ দিকে নিয়াজ আহমদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক মামুন আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au