মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর: দীর্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনের পর বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এই রাজনৈতিক নেতা দেশে ফিরতেই রাজধানী ঢাকায় নেমে আসে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ। দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর রাস্তায় অবস্থান করেন শুধু এক ঝলক তারেক রহমানকে দেখার জন্য।
পূর্বাচলে নির্মিত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চে দুপুরে তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণ দেন। তিনি মঞ্চের কেন্দ্রে তার জন্য রাখা বিলাসবহুল চেয়ার সরিয়ে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। হাত নেড়ে সমবেত জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে একজন মা নিশ্চিন্তে তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারবেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।”
২০০৮ সালে ঘুষ ও অর্থপাচারের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয়কৃত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা, বিতর্কিত নির্বাচন ও দমনমূলক রাজনীতির ভেতর দিয়ে গেছে। সেই সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয় গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে, যার ফলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতন ঘটে। তবে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই আন্দোলনের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে দেশে উগ্র ডানপন্থী শক্তির উত্থান ঘটে। বিকল্প ইসলামী চর্চার বহু মাজার ধ্বংস করা হয়, তাদের অনুসারীদের হয়রানি করা হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। প্রথোম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলা এবং যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর এক সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা এই “মবতন্ত্রের” চরম রূপ তুলে ধরেছে।
এমন এক অস্থির সময়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে ঢাকায় উৎসবমুখর ও আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী রাতভর ঠান্ডায় রাস্তায় ঘুমান, খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহান, কেউ পলিথিন ও কম্বল গায়ে দিয়ে অপেক্ষা করেন। সকালেও দলে দলে মানুষ এসে ভিড় জমান।
সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমান দেশে পৌঁছান। তিনি একটি স্বল্প-কার্বন এয়ারবাসে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা জায়মা রহমান এবং তাদের পোষা বিড়াল জিবুকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। মাটিতে নেমে তিনি খালি পায়ে ভূমিতে স্পর্শ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, যেন নিজের মাতৃভূমিকে শ্রদ্ধা জানান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর কথা স্মরণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী স্বৈরাচারী শাসনে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য, ঐক্য ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচররা এখনও সক্রিয়। আমাদের শান্ত ও দৃঢ় থাকতে হবে।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি দেশ গড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। শনিবার তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হবেন, হাদীর কবর জিয়ারত করবেন এবং পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনের আহতদের সঙ্গে দেখা করবেন।
নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্ব বজায় রেখেছিলেন। ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দল পুনর্গঠন ও কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন, যদিও তাকে নিয়ে “জুম নেতা” বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। তবু এই ভার্চুয়াল নেতৃত্বই বিএনপিকে টিকিয়ে রাখে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি তাকে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির কার্যত নেতৃত্ব তার হাতেই কেন্দ্রীভূত করেছে। তার ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্র, শাসনব্যবস্থা ও জনকল্যাণের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au