চাঁদপুরে জেলার হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে সংঘটিত সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের নিমিত্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- চাঁদপুরের হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী সম্রাট-৩ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জেলার হরিনা এলাকায় সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন যুগ্মসচিব মোহাম্মদ এমরান হোসেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একজন প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একজন প্রতিনিধি এবং নৌপুলিশের একজন প্রতিনিধি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ.টি.এম. মোর্শেদকে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে-মেঘনা নদীতে সংঘটিত সম্রাট-৩ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা পক্ষগুলো শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের এই সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ঘটনার পরপরই লঞ্চ চলাচল ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।