চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২৭ ডিসেম্বর: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন আইনপ্রণেতা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা জোর দিয়ে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার এই চিঠিটি পাঠান মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেনগা, সিডনি কমলাগার-ডোভ, জুলি জনসন এবং টম আর সুওজ্জি।
এদিকে গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মুক্ত, ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। এটাই আমাদের অবস্থান।”
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশটির নির্বাচন কমিশন যখন সারাদেশে নিজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ও কার্যালয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করছে, তখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশে একটি “মুক্ত, ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক” নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।
২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা যায়, ফলে শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন এবং গত দেড় বছরে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা বহু মামলা প্রত্যাহার বা অকার্যকর হয়ে গেছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাসনে রয়েছেন। গত বছরের জুলাইয়ে শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত ঝুলে আছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ফেরার আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। অন্তর্বর্তীকালীন নেতা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করায় জরিপগুলোতে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।
ইউনূস ও তারেক রহমান দুজনেই আওয়ামী লীগকে “ফ্যাসিস্ট” দল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারেক রহমান ছাত্রনেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গেও জোট গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যে দলটি শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
তবে এনসিপি এখন নিজেই অনিশ্চয়তায় ভুগছে। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ ইসলাম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি আমাদের জন্য মোটেও সুখকর নয়।”
বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির (এরশাদ) চেয়ারম্যান জিএম কাদের indiatoday.in-এ লেখেন, “বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় না। তাদের সেই সক্ষমতাও প্রশ্নবিদ্ধ।” তার মতে, একমাত্র সমাধান হতে পারে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের সারাদেশে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টিই আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন অনিশ্চিত ও বিভক্ত পরিবেশে আদৌ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au