রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খানা। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি এই কংগ্রেসম্যান একে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রো খানা লেখেন,
“বাংলাদেশে ২৭ বছর বয়সী হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনা ভয়াবহ। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের নিঃশর্তভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে।”
এই মন্তব্য আসে ময়মনসিংহ জেলার বালুকা এলাকায় ঘটে যাওয়া দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে। নিহত দীপু একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর তাঁকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কারখানার ভেতর ও পরে বাইরে নিয়ে গিয়ে একদল মানুষ নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে বলে জানা গেছে। এরপর তাঁর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়।
দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কারখানার এক কর্মকর্তা বালুকা থানাকে জানান, কয়েকজন শ্রমিক দীপুকে ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে মারধর করে। পরে তাঁকে কারখানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দারাও হামলায় যোগ দেয়।
তবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব)-১৪-এর ময়মনসিংহ কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে দীপু দাস ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কিছু পোস্ট করেছিলেন। এমনকি সহকর্মী বা স্থানীয় কেউই তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এদিকে নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বালুকা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে ১৪০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ ও ভারতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে এটি আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au