আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বন্ডাই বিচে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা তদন্তে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা পরিচালনার আনুষ্ঠানিক শর্তাবলি ঘোষণা করেছেন। এই হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুসহ মোট ১৫ জন প্রাণ হারান। তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক ASIO প্রধান ও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ডেনিস রিচার্ডসন এসি।
এই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (ASIO), অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (AFP)সহ ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। হামলার আগে অভিযুক্তদের বিষয়ে কী তথ্য ছিল, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এবং ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ের সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান কতটা কার্যকর ছিল এবং এই হামলা প্রতিরোধে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত কি না, তা মূল্যায়ন করা হবে।
অ্যালবানিজ বলেন, এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তাঁর “হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে”। তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহের একটু বেশি আগে ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা বন্ডাই বিচে গিয়ে আমাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাতে চেয়েছিল। আমাদের জবাব হতে হবে ঐক্য ও দ্রুত পদক্ষেপ, বিভাজন বা বিলম্ব নয়।”
সরকার জানিয়েছে, এই পর্যালোচনা এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন ও প্রকাশ করা হবে। অ্যালবানিজ বলেন, “মি. রিচার্ডসন দেখবেন কমনওয়েলথ সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ কার্যকারিতার সঙ্গে কাজ করেছে কি না। হামলার আগে অভিযুক্তদের সম্পর্কে কী জানা ছিল, সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় কেমন ছিল এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেসবও তিনি পর্যালোচনা করবেন।” তিনি আরও বলেন, এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সব নথি, তথ্য ও বৈঠকে রিচার্ডসনকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
এদিকে বিরোধী দল এই উদ্যোগকে যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রয়্যাল কমিশনের দাবি জানিয়েছে। বিরোধী নেত্রী সুসান লে বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায় এটি চায়, অস্ট্রেলীয় জনগণ এটি চায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও উত্তর ও ন্যায়বিচার চায়।” তাঁর ভাষায়, এই হামলা অনিবার্য ছিল না, বরং প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টনি বার্ক অবশ্য বলেন, রয়্যাল কমিশন চালু হলে গত দুই বছরে দেখা ইহুদিবিদ্বেষী কণ্ঠগুলো আবার প্রকাশ্যে উঠে আসবে এবং সামাজিক সংহতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁর মতে, একটি স্বাধীন পর্যালোচনাই জাতীয় নিরাপত্তার জরুরি বিষয়গুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পথ।
এদিকে হামলায় নিহত ও আহত ১৭টি পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার একটি যৌথ চিঠি দিয়ে রয়্যাল কমিশনের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে তারা জানতে চেয়েছে, কেন “স্পষ্ট সতর্ক সংকেতগুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল”।
অস্ট্রেলিয়ান জিউয়ারি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স রিভচিন বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য রয়্যাল কমিশনই করা উচিত”। তাঁর মতে, কেবল এমন কমিশনেরই পূর্ণ আইনি ক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে এই হামলা কীভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এমন গণহত্যা ঠেকানো যায়, তার প্রকৃত উত্তর বের করা সম্ভব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au