চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- চন্দ্রনাথ ধামে পবিত্র পরিবেশ রক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের কারণে মহাতীর্থটির শান্ত ও ভক্তিময় আবহ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন পুণ্যার্থী ও স্থানীয় ভক্তরা।
মন্দির চত্বর ও আশপাশের পাহাড়জুড়ে ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্লোগান, উচ্চ শব্দ এবং বিশৃঙ্খল চলাচল বেড়েছে। এতে ধ্যান, পূজা ও নীরব প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন তীর্থযাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রনাথ ধাম তার শান্ত পরিবেশ ও পবিত্রতার জন্য পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় এলাকায় প্রকাশ্যে তামাক সেবন, যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা ফেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠছে। এর ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মন্দিরের পবিত্রতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারি ও সুস্পষ্ট ব্যবস্থাপনার অভাবে কিছু মানুষ নির্বিঘ্নে এই পবিত্র স্থানের মর্যাদা ভঙ্গ করে চলাচল করছে।
এছাড়া স্রাইন কমিটির আওতাধীন এলাকাতেই অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পাহাড়ের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভিড় ও শব্দদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন ভক্তরা। তাদের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে চন্দ্রনাথ ধামের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও তীর্থের ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পুণ্যার্থী শিবানন্দ দত্ত বলেন, তারা দূরদূরান্ত থেকে শান্ত পরিবেশে পূজা ও ধ্যানের উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু এখন সেখানে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও উচ্চ শব্দের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক পুণ্যার্থী মীনা রানী জানান, পাহাড়জুড়ে তামাক ও আবর্জনার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। তার মতে, বিষয়টি শুধু সৌন্দর্যের নয়, এটি পবিত্রতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
স্থানীয় এক প্রবীণ ভক্ত বলেন, চন্দ্রনাথ ধাম কেবল একটি তীর্থস্থান নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ। এই স্থানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন এবং স্রাইন কমিটিকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
এ অবস্থায় পুণ্যার্থী ও স্থানীয় ভক্তরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ভক্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা জরুরি। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামের পবিত্রতা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
সূত্রঃ হিন্দুজ নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au