নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে…
মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারী- ২০২৫ সালজুড়ে দেশে মব সন্ত্রাস আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। কোনো ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সন্দেহ ও গুজবের ভিত্তিতে মানুষকে মারধর ও হত্যার ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এতে আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সমাজে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত আসকের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫’-এ বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মব সন্ত্রাসে অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘তওহীদি জনতা’র নামে বেআইনিভাবে মব সংগঠিত করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, এমনকি কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম ঘটনাও ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধা ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে গড়িমসির অভিযোগ উঠে এসেছে।
আসকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে কমপক্ষে ২৯৩ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭ জন, গাজীপুরে ১৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১১ জন মব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী থাকলেও অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে অন্তত ৩৮ জন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনা ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনে, কথিত ‘গুলিতে’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৯ জন ছিলেন হাজতি এবং ৩৮ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক। আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৭৪৪ জন এবং নিহত হয়েছেন ১০২ জন। এসব সহিংসতা শুধু বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই খারাপ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরে অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি বা হুমকির শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হয়েছেন ১১৮ জন সাংবাদিক। প্রকাশিত সংবাদ বা মতামতের কারণে মামলা হয়েছে কমপক্ষে ১২৩ জনের বিরুদ্ধে। এ সময়ে তিনজন সাংবাদিক নিহত হন এবং চারজন সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। আসকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৩টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৩৬টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, চারটি মন্দিরে হামলা, ৬৪টি প্রতিমা ভাঙচুর এবং নয়টি জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চিত্রও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ২১৭ জন নারী স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন এবং স্বামীর পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৩ জন। পারিবারিক সহিংসতা থেকে মুক্তির পথ না পেয়ে অন্তত ১৬৮ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৯টি, যার মধ্যে ১৮০টি ছিল দলবদ্ধ ধর্ষণ। এসব ঘটনার পর ৩৬ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে।
শিশু সহিংসতার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। চলতি বছরে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় অন্তত ৪১০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে আসক।
প্রতিবেদনের উপসংহারে আসক বলেছে, দেশে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে বৈষম্য, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের চিত্রে আশানুরূপ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au