‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারি- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম এসেছে, সেই ফয়সাল করিম মাসুদ প্রকাশ্যে ভিডিও বার্তায় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে বা ভারতে ছিলেন না, বরং দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের পুলিশের আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি ভারত পালিয়ে গেছেন।
এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ওই ভিডিওতে মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি হত্যার মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। তাঁর দাবি, একটি উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত।
ভিডিও বার্তায় মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়ায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং অত্যন্ত কষ্ট করে দুবাইয়ে এসেছেন। তাঁর কাছে পাঁচ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি দুবাই ভিসা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সহজ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই মামলার জেরে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। মাসুদের ভাষায়, তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, যা তিনি তীব্রভাবে প্রতিবাদ করেন।
ওসমান হাদির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। অতীতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়েও কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, চাকরির বিষয়ে আলোচনার জন্যই তিনি হাদির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। হাদি তাঁকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং অগ্রিম হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অনুদান চাওয়া হলে তিনি অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনার আগের শুক্রবারেও একটি কর্মসূচির জন্য তিনি টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন মাসুদ।
তবে মাসুদের সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো, তিনি ওসমান হাদি হত্যার জন্য সরাসরি জামায়াতে ইসলামিকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, ওসমান হাদি ছিলেন জামায়াতেরই তৈরি একজন নেতা এবং তাঁকে জামায়াতের লোকজনই হত্যা করেছে। তিনি বলেন, তিনি বা তাঁর ছোট ভাই কেউই ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে ছিলেন না এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশের আগের বক্তব্যে বলা হয়েছিল, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে গেছেন। পুলিশ ও কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাঁরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।
তবে ভারত সরকার এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এ ধরনের দাবি উগ্রবাদী মহল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন গত বছরের বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের একজন পরিচিত নেতা। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ছয় দিন পর তিনি সেখানে মারা যান। গত বছরের ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।
হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয় এবং ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের কেন্দ্রে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে।
এই প্রেক্ষাপটে ফয়সাল করিম মাসুদের নতুন দাবি ও ভিডিও বার্তা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au