আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২ জানুয়ারি- চরম অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা দেশটিতে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানায়, লোরেস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সময় অন্তত তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে কয়েকটি ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকাতেও।
এ ছাড়া পশ্চিম ইরানের লোরদেগান ও কুহদাশত এবং মধ্যাঞ্চলের ইসফাহান প্রদেশ থেকেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও দাবি করেছে, এসব এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
এই বিক্ষোভের সূচনা হয় গত রোববার। মুদ্রার দ্রুত অবমূল্যায়ন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে। দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তেহরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে সরকার প্রস্তুত।
তবে বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও মারভদাশত, কেরমানশাহ, হামেদানসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে ইরানে এই অস্থিরতা আরও গভীর আকার নিতে পারে।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au