সুকুমার বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জানুয়ারি- একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
সুকুমার বড়ুয়ার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় গত এক সপ্তাহ ধরে তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব অসুস্থতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সীমিত আয়ের মধ্যেই তোপখানা রোডে ছয় টাকায় একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি।
১৯৬৩ সাল থেকে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন শিশু-কিশোর পত্রিকায়। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান তিনি।
প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে শিশু-কিশোর সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পান। তার ছড়ায় যেমন ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরস, তেমনি ছিল নৈতিক শিক্ষা, সমাজ সচেতনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সময় ও রাজনীতির বাস্তবতাও তার লেখায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার’ (দুই খণ্ড), ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’ এবং ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’।
শিশু সাহিত্য ও ছড়ায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে বাংলা ছড়াসাহিত্যে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো।