চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ জানুয়ারি: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন–পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের চালানো সহিংসতা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অধিকার রক্ষা করা ইরানের দায়িত্ব।
শুক্রবার রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ২০২২ সালের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর ইরানের মুদ্রার ভয়াবহ পতনের প্রতিবাদে তেহরানে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিলে আন্দোলনের সূচনা হয়। খুব দ্রুতই সেই প্রতিবাদ রূপ নেয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর বিদ্রোহে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থনীতির ব্যর্থ ব্যবস্থাপনা এবং পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ তুলছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরের (DFAT) এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় জোরালোভাবে কথা বলা অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষের সহিংসতা আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই এবং ইরানকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকার সম্মান করার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকার নিয়মিতভাবে ইরানের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরছে।
আলবেনিজে সরকার ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বায়ত্তশাসিত নিষেধাজ্ঞা কাঠামো সম্প্রসারিত করে ইরানে অভ্যন্তরীণ দমন–পীড়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রায় ১০০ জন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ মোট ২০০ জন ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আলবেনিজ সরকার গত বছর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ছবি: নিউজওয়ার/মার্টিন ওলম্যান
গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ASIO অভিযোগ করে যে ইরান সরকার সিডনি ও মেলবোর্নে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। এর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রদূত আহমদ সাদেগিকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিডনির রাইড কাউন্সিলর ও সাবেক গ্রিনস সদস্য, ইরানি বংশোদ্ভূত টিনা কর্দোস্ত্রামি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ইরানি দূতাবাস বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও ব্যক্তি যারা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছে, তাদের ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “এই ব্যক্তিরা শুধু নিজেরাই নয়, তাদের পরিবারসহ অবাধে অস্ট্রেলিয়ায় আসা–যাওয়া করছে। এটি উদ্বেগজনক।”
কর্দোস্ত্রামি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে এই আন্দোলন সরকার পতনের আশা জাগিয়েছে, যদিও সম্প্রদায়টি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত।
“আমরা সবাই উৎকণ্ঠায় আছি। এবার ইরানের ভেতরের মানুষরাই মূল লড়াই চালাচ্ছে, আমাদের কাজ হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো,” তিনি বলেন।
১৯৭৯ সালে মার্কিন সমর্থিত শাহ সরকারকে উৎখাত করে ইরানে ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি ইরান–ইরাক যুদ্ধ, ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে আন্দোলনসহ একাধিক গণবিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে।
২০২৫ সালে ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধেও জড়ায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রার পতন ও পানির সংকট দেশটিতে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানকে ‘ভ্রমণ না করার’ তালিকায় রেখেছে। দেশটিতে অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলার সহায়তা অত্যন্ত সীমিত বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au