মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম (সালেহী)-এর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সেখানে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পরামর্শ দেন।
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্মেলন কক্ষের ভেতরে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নেওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’, ‘ভারতের দালাল’ ও ‘ইসকন সদস্য’ আখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
বিক্ষোভে জামায়াতের জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা ছাড়াও কুড়িগ্রাম-২ আসনে দলটির প্রার্থী ইয়াসিন আলী সরকার উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, তাকে ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন দাবি করে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়। তাকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত সনদ বা প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলম সালেহী বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন দাবি করে ই-মেইল ও পেমেন্ট সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র জমা দিলেও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে নাগরিকত্ব বাতিলের কোনও চূড়ান্ত সনদ পাওয়া যায়নি।
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) দফা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। প্রার্থী নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন এমন কাগজপত্র জমা দিলেও চূড়ান্ত প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও গ্রহণযোগ্য সনদ দাখিল না হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বাকি ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au