চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির বিশাল তেলসম্পদের দিকে নজর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির তেলক্ষেত্র কাজে লাগানো হবে। ট্রাম্প চান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় কয়েকশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করুক এবং দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করে দেশটির জন্য আয় নিশ্চিত করুক।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত ভেনেজুয়েলার। দেশটির মোট তেল মজুতের পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে এত বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন খুবই কম। ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ও পরে মাদুরো সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও কর্মীদের বড় একটি অংশ দেশ ছেড়ে চলে যান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি সীমাবদ্ধতায় বিনিয়োগ ও যন্ত্রাংশ আমদানিও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল, যা ১০ বছর আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম এবং বিশ্বব্যাপী মোট তেল ব্যবহারের এক শতাংশের নিচে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল মূলত ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ, যা পরিশোধন করা কঠিন এবং এতে বড় ধরনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাধা আইনগত ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করতে চাইলে প্রথমেই একটি বৈধ ও স্থিতিশীল সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। মাদুরোর পর নতুন সরকার কবে ও কীভাবে গঠিত হবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। এমনকি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও চুক্তি, অবকাঠামো সংস্কার ও উৎপাদন বাড়ানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার আগের উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরতে হলে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার হবে এবং তা করতে এক দশক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ কারণে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ বা দামে নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। বিশ্ববাজারে বর্তমানে তেলের ঘাটতি নেই এবং ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদনও বেশ উঁচু পর্যায়ে রয়েছে।
এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বড় তেল কোম্পানি হিসেবে শেভরন ভেনেজুয়েলায় সীমিত আকারে কাজ করছে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ অনুমতি পেয়ে তারা কার্যক্রম চালু রাখে। শেভরনের উৎপাদন ভেনেজুয়েলার মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান। তবে অন্য বড় তেল কোম্পানিগুলো এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ অনেক কোম্পানির কাছেই বড় আকর্ষণ হয়ে থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, অবকাঠামো ধ্বংস, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিপুল বিনিয়োগ ব্যয়ের কারণে ট্রাম্পের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন। ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুজ্জীবন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, যার ফল পেতে সময়, স্থিতিশীলতা এবং বিপুল অর্থ ব্যয় অপরিহার্য।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au