দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় নিহত শরৎ মণি চক্রবর্তী
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হলো নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজারে এক মুদিখানা ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায়। সোমবার রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় শরৎ মণি চক্রবর্তী নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে আরেক হিন্দু ব্যবসায়ীকে। তিনি স্থানীয় সংবাদিকতার সাথেও জড়িত ছিলেন।
নিহত শরৎ চক্রবর্তী চরসিন্দুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মুদিখানার দোকান চালাতেন। তিনি নরসিংদীর ব্রাক্ষন্দী এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার বাবা মদন চক্রবর্তী এবং স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায়। তাদের একমাত্র ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরৎ শান্ত স্বভাবের ও সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে দোকানে কাজ করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত শরৎকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে শরতের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। তারা দাবি করেন, এসব হুমকির পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য বা দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও সমাজকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বলছেন, একের পর এক সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে ধারাবাহিক হিন্দু নির্যাতনের মধ্যে একের পর হত্যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। যা ছিল এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয় ঘটনা। তার আগে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আরেকটি ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর পাংশায়। সেখানে এক হিন্দু যুবককে কথিত ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ এনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।