মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়। মঙ্গলবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রধান মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। তার ভাষায়, এতে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো ইচ্ছামতো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা কিংবা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘ সনদের এই মৌলিক নীতির ব্যত্যয় ঘটলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র যে এই অভিযানের ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন শামদাসানি। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনোই আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে করা যায় না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত এক দশক ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর নিয়মিতভাবে ভেনেজুয়েলার ক্রমাবনত মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এসব প্রতিবেদনে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের দুর্দশার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে রাভিনা শামদাসানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং ভেনেজুয়েলার আরও সামরিকায়ন পরিস্থিতিকে ভালো করার বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সূত্র : এএফপি