ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি: বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দেশের মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭,৫৫৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও ৮,৭৪৬টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে মোট ১,৭৬,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, আগামী ৩৭ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং এবং এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনআস্থা বজায় রাখতে দৃশ্যমান টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ। এর মধ্যে ৮,৭৪৬টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ১৬,৩৫৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৭,৩৫৯টি সাধারণ কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ থেকে গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র বিশেষ পুলিশ দল মোতায়েন থাকবে এবং কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন যাতে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়।
নির্বাচনের আগে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২০ বা ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী। এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ২,১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১,১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। চট্টগ্রাম মহানগরের ৬০৭টির মধ্যে ৩১২টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর মহানগরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতের সহিংসতা, স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও চলমান স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত ও ৭,৫১১ জন আহত হয়। চলতি নির্বাচনী সময়ে ইতোমধ্যে ৫৪টি সহিংস ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন। এএসকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০২ জন প্রাণ হারান।
সব ঝুঁকি সত্ত্বেও পুলিশ বলছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au