মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- একের পর এক হিন্দু হত্যার ঘটনার মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকায় নিজেদের বাসায় সংখ্যালঘু ছোট্ট একটি হিন্দু মেয়েকে ধষর্ণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। বর্বরোচিত এই ঘটনা পুরো বাংলাদেশজুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। মেয়েটির শ্রাবন্তী ঘোষ। বয়স ১০ থেকে ১১ বছর।
শ্রাবন্তীর বাবা কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম শহরের বাইরে থাকেন। মা চাকরি করেন স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে। ঘটনার সময় শ্রাবন্তী তার ছোট ভাইকে নিয়ে বাসায় একাই ছিল। কাজ শেষে রাতে মা বাসায় ফিরে মেয়ের ঝুলন্ত ও নিথর দেহ দেখতে পান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একা পেয়ে মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহটি ঘরের ভেতর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।
একমাত্র মেয়ের ওপর এমন নৃশংসতার ঘটনা দেখে মায়ের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এই অবুঝ শিশু ও তার ছোট ভাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার আক্ষেপ এবং সন্তান হারানোর বেদনায় পরিবারটি এখন দিশেহারা তিনি।
নিহত শ্রাবন্তী ঘোষের পরিবারের একজন সদস্য নাম না বলে সাংবাদিকদের বলেন, শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে মেয়েটি এভাবে মরতে হলো।
তবে এলাকার কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, শ্রাবন্তীরা যে বাড়িতে ভাড়া ছিল, সেই বাড়ির মালিক এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় জনমনে এই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাধারণ সনাতনী সম্প্রদায় ও নেটিজেনরা বলছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি নিরাপদ ঘরে এমন নৃশংস অপরাধ ঘটা চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এরইমধ্যে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
নামপ্রকাশ না করে একজন সংগঠক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিশু ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রশাসনের কাছে জোর দাবি, অবিলম্বে যেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হয় এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।