মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- রুশ নৌবহরের পাহারার মধ্যেই অতলান্তিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত একটি তেলবাহী জাহাজ দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কমান্ডো বাহিনী। একই দিনে ক্যারিবিয়ান সাগরে আরেকটি তেলবাহী জাহাজ কব্জায় নেয় মার্কিন উপকূলরক্ষীরা। ওয়াশিংটনের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণের সঙ্গে জড়িত থাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড জানিয়েছে, ‘বেলা-১’ নামের তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় আটক করা হয়। অন্যদিকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম ক্যারিবিয়ান সাগরে ‘সোফিয়া’ নামের আরেকটি তেলবাহী জাহাজ দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই ঘটনার পরপরই মস্কো কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। রুশ পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বেলা-১ জাহাজে থাকা রুশ নাবিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখার কথাও জানিয়েছে রাশিয়া।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটি আটকের আগের কয়েক দিন ধরে অতলান্তিক মহাসাগরে বেলা-১–এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল মার্কিন নৌবাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইসল্যান্ড উপকূল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে ট্যাঙ্কারটিকে ঘিরে রাখে একাধিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার।
বেলা-১ ট্যাঙ্কারটি একসময় ইরানের তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে যুক্ত হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি। এর আগেও ক্যারিবিয়ান সাগরে জাহাজটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল, যার তীব্র নিন্দা জানায় ভেনেজুয়েলা সরকার। তখন জাহাজটিতে গায়ানার পতাকা থাকলেও পরে রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জাহাজ ও অবৈধ তেল পরিবহণ ঠেকাতে তারা প্রয়োজন হলে এমন অভিযান চালাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই জাহাজ দখল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।