এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“আমাকে থামাতে পারে একটাই জিনিস—আমার নিজের নৈতিকতা। আমার নিজের মন। এটিই একমাত্র সীমা।”
নিউইয়র্ক টাইমসের চারজন সাংবাদিক হোয়াইট হাউসে এই সাক্ষাৎকার নেন। তাঁরা সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা, গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা, ইউরোপ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং একটি বিতর্কিত পুলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।
ভেনেজুয়েলা: ‘আমরা যতদিন চাই, ততদিন দখলে রাখব’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ ব্যবহার করে দেশটিকে বছরের পর বছর কার্যত পরিচালনা করবে।
“আমরা এটিকে খুব লাভজনকভাবে পুনর্গঠন করব। আমরা তেল নেব, তেল ব্যবহার করব। তেলের দাম নামাবো এবং ভেনেজুয়েলাকে টাকা দেব—তাদের সেটা দরকার,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে “সবকিছু দিচ্ছে যা আমরা প্রয়োজন মনে করি”।
এই বক্তব্যের পরই মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, যা ভেনেজুয়েলায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারই অনেক সিনেটরকে নাড়া দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড: ‘আমাদের মালিকানা চাই’
ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্প বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
“শুধু ঘাঁটি নয়। মালিকানা দরকার। মালিকানা থাকলে মনস্তাত্ত্বিকভাবে শক্তি আসে,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি ইঙ্গিত দেন, ন্যাটো টিকিয়ে রাখা আর গ্রিনল্যান্ড দখল—এই দুইয়ের মধ্যে একসময় তাঁকে একটি বেছে নিতে হতে পারে।
ন্যাটো ও ইউরোপ নিয়ে হুমকি
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো মূল্যহীন। ইউরোপকে “নিজেদের ঠিক করতে হবে” বলে হুঁশিয়ারিও দেন।
চীন ও তাইওয়ান
চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন,
“আমার সময়ে শি জিনপিং সাহস করবে না। অন্য প্রেসিডেন্ট এলে হয়তো করবে।”
কলোম্বিয়াকে নিয়েও হুমকি
সাক্ষাৎকার চলাকালেই ট্রাম্প কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পেট্রো পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন,
“আমরা বিপদের মধ্যে আছি। ট্রাম্পের হুমকি বাস্তব।”
মিনিয়াপোলিসে ICE গুলিকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য
সাক্ষাৎকারের দিনই মিনিয়াপোলিসে এক ICE কর্মকর্তা ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যা করে। ট্রাম্প দাবি করেন, নারীটি অফিসারকে গাড়ি দিয়ে চাপা দিয়েছিল।
কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহত নারী অফিসারের দিকে নয়, বরং দূরে সরে যাচ্ছিলেন।
তবু ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
একনায়কতান্ত্রিক দর্শনের স্পষ্ট ঘোষণা
এই সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে ভয়ংকর বার্তাটি ছিল ট্রাম্পের এই বক্তব্য:
“আমি আন্তর্জাতিক আইন মানি না। আমার শক্তিই আইন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে নগ্নভাবে প্রকাশিত শক্তির দর্শন—যেখানে নৈতিকতা, আইন ও আন্তর্জাতিক কাঠামো নয়, বরং কেবল ক্ষমতাই সবকিছুর মাপকাঠি।
রিপোর্ট: নিউইয়র্ক টাইমস | লেখক: Katrin Bennhold