‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলম
মেলবোর্ন, ২০ জুন- জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি মনে…
মেলবোর্ন ৯ জানুয়ারি- তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অনলাইন নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যত পূর্ণমাত্রার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, এই সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বিক্ষোভ দমনে সরকারের গৃহীত ধারাবাহিক ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ। সংস্থাটির মতে, এমন পরিস্থিতিতে জনগণের যোগাযোগের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তথ্য আদান–প্রদান প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিত্যপণ্যের সংকট এবং স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী তেহরানসহ একাধিক বড় শহরের বাজার ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অস্থির পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেন।
একই সুরে প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দাঙ্গা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে কিংবা তাতে সমর্থন দেবে, তাদের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সংখ্যা যেন আর না বাড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা এবং নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও সংযমই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একমাত্র পথ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au