আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১০ জানুয়ারি- ইরানে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ আরও সহিংস ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির কর্তৃপক্ষ পুরো ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরানে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু ইন্টারনেট নয়, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরান থেকে বাইরে ফোন করা যাচ্ছে না, আবার বাইরের দেশ থেকেও ইরানে ফোন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং দেশটির অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও স্বাভাবিকভাবে আপডেট হতে পারছে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তেহরানের মেয়রের বরাতে জানায়, বিক্ষোভকারীরা ৪২টির বেশি বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য সরকারি যানবাহনে আগুন দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১০টি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিক্ষোভ দমনে সেনা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। হতাহতের এই খবর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন চালানো হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। এক ধাপ এগিয়ে তিনি আরও বলেন, যদি ইরান প্রশাসন মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক নারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহ
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট হিসেবে আখ্যা দেন। সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে খামেনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে।
খামেনি বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না এবং বিদেশি ভাড়াটেদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, আগের রাতে তেহরানে একদল দাঙ্গাবাজ রাষ্ট্রীয় ভবনে হামলা চালিয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জোগাতে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে নিজের দেশের সমস্যা সামলানোর পরামর্শ দেন।
ভাষণে খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শতশত শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই রাষ্ট্র কখনো নাশকতা বা সহিংসতার মুখে নতিস্বীকার করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইরান সরকার একদিকে বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত হওয়ার পথ রুদ্ধ করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর এড়ানোর কৌশল নিচ্ছে। তবে এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au