চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১০ জানুয়ারি- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে দুটি বড় জোটকে ঘিরে সমীকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ এগার দলীয় জোট। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন হলে মূল লড়াই এই দুই জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতির এই পর্যায়ে এসে দুই জোটের ভেতরেই বাড়ছে সংশয়, অবিশ্বাস ও বিভক্তির চিত্র।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটটি গঠিত হয়েছে মূলত অতীতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে নিয়ে। গণঅধিকার পরিষদ, গণতন্ত্র মঞ্চের কয়েকটি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আসন সমঝোতার চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দল। দুই জোটই ইতোমধ্যে নিজেদের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কিন্তু এই আসন সমঝোতাই এখন উভয় জোটের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন ভাগাভাগি করতে গিয়ে কোন দল কতটি আসন পাবে, কোন আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে এবং কোথায় ছাড় দেওয়া হবে, এসব প্রশ্নে জোটের ভেতরেই মতবিরোধ সামনে এসেছে। কোথাও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন, আবার কোথাও শরিক দলগুলোর মধ্যে সরাসরি দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাচ্ছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে সবচেয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে। বরিশাল সদর আসনের অন্তর্গত চরমোনাই ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। চরমোনাই ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। একই আসনে জামায়াতের পক্ষ থেকেও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। ফলে একই জোটের দুই শরিক দল একই আসনে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, চরমোনাইয়ে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া জোটগত শিষ্টাচারের পরিপন্থী। সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রকাশ্যেই বলেছেন, জামায়াত আমীরের আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয়নি, অথচ তাদের মূল ঘাঁটিতে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে, যা তারা ভালোভাবে নেননি। তার মতে, এই এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত এবং এখানে জোটের অন্য কোনো দলের প্রার্থী থাকা উচিত নয়।
অন্যদিকে জামায়াত এই আসন ছাড়তে নারাজ। দলটির যুক্তি হলো, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম একই সঙ্গে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ দুটি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জামায়াত চায়, তিনি একটি আসন বেছে নিকেন এবং বিশেষ করে বরিশাল-৬ আসনটি নিক। জামায়াত নেতা মুয়াযযম হোসাইন হেলাল জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তির দুটি আসনে প্রার্থী হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই বিরোধ মিটেনি এবং এতে জোটের ভেতরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তির নয়। এখানে মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি সরাসরি কোনো প্রার্থী দেয়নি। জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বড় অংশ নুরুল হক নূরের পক্ষে কাজ করছেন না।
নুরুল হক নূরের অভিযোগ, এলাকায় বিএনপির প্রায় নব্বই শতাংশ নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওই বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন, যাকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। গলাচিপা এলাকায় তার বৈঠকগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু স্থানীয় নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। এসব কমিটির অনেকগুলোই তার তত্ত্বাবধানে গঠিত হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে তিনি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন।
হাসান মামুন দাবি করেছেন, বিএনপিকে বাঁচাতেই তিনি নির্বাচন করছেন। তার মতে, আসনটি জোটের শরিককে ছেড়ে দেওয়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং তারা মনে করছেন, এই আসন ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে বিএনপি আর এখানে দাঁড়াতে পারবে না। এই বাস্তবতায় জোটের প্রার্থী হয়েও নুরুল হক নূরের মধ্যে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের বিদ্রোহী প্রার্থী শুধু এই একটি আসনেই নয়, বিএনপি জোটের শরিকদের আরও কয়েকটি আসনেও রয়েছে। বিএনপি এখন পর্যন্ত শরিকদের জন্য মাত্র বারটি আসন ছেড়েছে। এই অল্পসংখ্যক আসন নিয়েও বিদ্রোহ দেখা দেওয়ায় শরিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দল থেকে বহিস্কার হওয়া প্রার্থীরা পরে আবার দলে ফিরে আসেন, বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ী হলে। ফলে শরিকদের আশঙ্কা, বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকলে ভোটের সময় তারা বিএনপির তৃণমূলের সহযোগিতা পাবেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাতে দল চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগার দলীয় জোটে পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে এখনো পুরোপুরি আসন সমঝোতা হয়নি। প্রায় পৌনে তিনশ আসনে বিভিন্ন দল মনোনয়ন জমা দেওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন অন্তত একশ বা তার কাছাকাছি আসন না পেলে এই বণ্টনকে সম্মানজনক মনে করছে না। সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উল্লেখযোগ্যভাবে কম আসন পেলে জোটের দায়ভার অন্যদের নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই জোটই ভেতরে ভেতরে অবিশ্বাস ও অস্থিরতায় ভুগছে। কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী, কোথাও শরিকদের মধ্যে সরাসরি দ্বন্দ্ব। এই সংকটগুলো কীভাবে মেটে এবং শেষ পর্যন্ত জোটগুলো কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au