বাংলাদেশ

অবশ্যই দেশে ফিরবো, বললেন শেখ হাসিনা

  • 9:14 pm - January 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৩ বার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ জানুয়ারি- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ভয় পেয়ে দেশ ছাড়েননি। দেশ ছেড়েছিলেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে, তাদের প্রাণহানী এড়াতে। তার কারণে লাখ লাখ নিরাপরাধ মানুষ যাতে বিপদে না পড়ে, এই শঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়েছিলেন দেশ ছাড়তে।

তিনি আবারও বাংলাদেশে ফিরবেন জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং তার দেশে ফেরা এক সুতোয় বাঁধা। তাকে তাই দেশে ফিরতেই হবে। তবে তা নির্ভর করছে আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবাধ-সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন পরিচালনার উপর।”

ভারতের ‘সংবাদ প্রতিদিন’কে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। এই সাক্ষাৎকার সোমবার গণমাধ্যমটির প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি অনলাইনেও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বৈধ সরকার স্থাপিত হলে এবং বিচার বিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ফিরে পেলে, আমি অবশ্যই চাইব বাংলাদেশে ফিরে যেতে। জীবনের সবটুকু তো বাংলাদেশকেই দিয়েছি আমি। বাংলাদেশেরই সেবা করেছি।”

মৌলবাদীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন জাতির পিতা শেখি মুজিবুর রহমানের নাম মুছে দিতে পারবে না- জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে ওরা। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক না কেন- তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হবে না।”

‘জুলাই আন্দোলন’ এর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবিজরিত ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বাড়িটিতে কয়েকবার হামলা চালিয়ে বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যার নেতৃত্ব দেয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও মৌলবাদী গোষ্ঠী।

এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমার সোনার দেশে এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা পারলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও মুছে ফেলতে চায়। আমাদের ভবিষ্যৎকে সুষ্ঠু ও সুনিশ্চিত করতে যারা এত বলিদান দিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতিও অবমাননা প্রদর্শন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা, আমার চোখে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ।”

“মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার কোনও একটি স্থানে বা কোনও বিশেষ বস্তুতে সীমিত নয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিয়েছে গণতন্ত্র, সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ধারণা। সেসবের নির্যাস কি এত সহজে ধুয়েমুছে সাফ করে ফেলা যাবে? বাংলাদেশের মাটি থেকে একটি ইমারত বা স্মৃতিসৌধকে মুছে ফেলা সহজ, কিন্তু বাংলাদেশের আত্মায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষয় হয়ে থাকবে।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

এ জন্য ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে হাসিনা বলেন, “ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। চরম বিপদের সময় ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, যে উষ্ণ আতিথেয়তা আমাকে দিয়েছে, সেজন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন.ইন

এই শাখার আরও খবর

বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে ইহুদিবিদ্বেষের হুমকি অবমূল্যায়িত হয়েছিল: মাইক বার্জেস

সিডনি: বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের ভয়াবহতা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) মহাপরিচালক মাইক…

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au